মূল কনটেন্টে যান
বাংলা চ্যাটবট

সিলিকন ভ্যালিতে নতুন সামাজিক বিতর্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি ব্যক্তিগত সম্পর্কেও বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?

পড়তে ৭ মিনিট

সিলিকন ভ্যালিতে নতুন সামাজিক বিতর্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি ব্যক্তিগত সম্পর্কেও বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?

আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকো শহরকে তো প্রযুক্তির খাসতালুক বলেই সবাই জানে। কিন্তু সেই শহরেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে তরুণদের ভেতর এক অদ্ভুত বিভাজন তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রযুক্তি বিষয়ক পত্রিকা The Verge-এর একটি বিশদ প্রতিবেদনে দেখা গেল, এই এআই ডেটিং ট্রেন্ড এখন ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে রীতিমতো বড় এক 'ডিলব্রেকার' হয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের ভালো-মন্দ আর সিলিকন ভ্যালির চাকরি নিয়ে বিরোধ এখন আর অফিসের চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ নেই। ঢুকে পড়েছে ডেটিং অ্যাপেও।

২০২২ সালে OpenAI যখন ChatGPT বাজারে আনল, সান ফ্রান্সিসকো যেন রাতারাতি পাল্টে গেল। চারদিকে এআই নিয়ে হইচই। তবে এই দ্রুত বদল কিন্তু সবাই হাসিমুখে মেনে নেয়নি। বিশেষ করে সৃষ্টিশীল আর সেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের ভেতর জন্ম নিয়েছে শক্ত এক নৈতিক প্রতিরোধ।

এআই ডেটিং ট্রেন্ড: প্রযুক্তির নীতিগত অবস্থান যখন ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাপকাঠি

The Verge-এর প্রতিবেদক সান ফ্রান্সিসকোর নানা আড্ডা, কো-ওয়ার্কিং স্পেস আর অনলাইন ডেটিং প্রোফাইল নিয়ে টানা প্রায় এক মাস খোঁজখবর করেন। তাতে দেখা গেল, Hinge-এর মতো ডেটিং অ্যাপে মানুষজন সোজাসাপ্টা এআই-এর বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান ঘোষণা করছেন।

গত বছর সান ফ্রান্সিসকোতে আসা ২৫ বছর বয়সী বিশ্লেষক আইরিন (Irene)-এর কথাই ধরুন। তিনি ডেটিং অ্যাপে ঘুরে দেখতে গিয়ে খেয়াল করলেন, অনেকের প্রোফাইলে পরিষ্কার লেখা "Fuck AI"। আবার অনেকে প্রম্পট হিসেবে সরাসরি জুড়ে দিচ্ছেন—"You should not go out with me if… you use AI"। অর্থাৎ, এআই ব্যবহার করলে আমার সাথে ডেটে যাওয়ার কথা চিন্তাও কোরো না।

আইরিনের চোখে পড়েছে, এমন কড়া কথা যারা লিখছেন তারা মূলত নার্সিং, গ্রাফিক ডিজাইন কিংবা শিল্পকলার (arts) সাথে যুক্ত। প্রতিদিনের কাজের জায়গা থেকেই তারা এআই-এর ক্ষতিকর দিকগুলো দেখেছেন। সেই নৈতিক ক্ষোভ থেকেই তাঁদের এই অবস্থান।

সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতীকের রূপ নিচ্ছে এআই-এর পক্ষ-বিপক্ষ

সান ফ্রান্সিসকোর তরুণ প্রজন্মের কাছে এআই সমর্থন করা বা না করাটা স্রেফ প্রযুক্তির পছন্দ নয়। এটি এখন তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয়ের প্রতীক। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ডেটিং প্রোফাইলে যেমন নিজের রাজনৈতিক অবস্থান বা গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতে তরমুজের ইমোজি (watermelon emoji) দেওয়া হয়, ঠিক তেমনি জুড়ে দেওয়া হচ্ছে এআই নিয়ে অবস্থানও। সংক্ষেপে, আপনি এই প্রযুক্তির পক্ষে কাজ করছেন নাকি বিপক্ষে—তা দিয়েই মেপে নেওয়া হচ্ছে আপনার নৈতিকতা।

সম্ভাব্য অস্তিত্বের সংকট ও দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের দ্বিধা

বার্কলির (Berkeley) কাছের একটি এআই সুরক্ষা বিষয়ক অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের (AI safety nonprofit) তরুণ গবেষক কাইল (ছদ্মনাম, বয়স ২০-এর কোঠায়)। তিনি এআই নিয়ে মারাত্মক দুশ্চিন্তায় আছেন। কাইলের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু এআই সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মানুষের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।

মানুষের অস্তিত্ব মুছে যাওয়ার এই শঙ্কা কাইলকে ব্যক্তিগত জীবনে কাউকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী স্বপ্নে জড়াতে দিচ্ছে না। তিনি বললেন, "আমার জন্য ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা খুব কঠিন, কারণ আমি আসলে দীর্ঘমেয়াদী কোনো ভবিষ্যৎ আশা করতে পারছি না।"

একই সাথে তথাকথিত 'ফ্রন্টিয়ার এআই' (frontier AI) কোম্পানিতে কাজ করা ছেলেমেয়েদের সাথে ডেট করতেও তাঁর প্রচণ্ড অনীহা। তাঁর চোখে, এরা যে ধরনের কাজে যুক্ত তা চরম ক্ষতিকর বা জঘন্য ("pretty heinous")। কাইলের মতে, এই কর্মীরা সমাজের ওপর তাঁদের কাজের বাজে প্রভাব নিয়ে ভাবেন না। তারা কেবল কাজ করেন মোটা বেতনের লোভে কিংবা প্রযুক্তিটা দেখতে দারুণ বলে।

ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি: প্রযুক্তির প্রভাব বনাম বাস্তবতা

সবাই অবশ্য এই বিতর্ক নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না। যেমন ধরুন ব্রায়ান (Bryan, ছদ্মনাম)। তিনি একটি প্রথম সারির ফ্রন্টিয়ার এআই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং সম্প্রতি একটা সম্পর্কেও জড়িয়েছেন। ব্রায়ানের কাছে প্রেমের ক্ষেত্রে এআই সংক্রান্ত ভাবনা সবচেয়ে গুরুত্বহীন একটা বিষয় ("the least [relevant] thing")।

ব্রায়ান মনে করেন, ডেটিংয়ে সবচেয়ে বেশি কাজ করে বাহ্যিক সৌন্দর্য আর ফিটনেস। পাশাপাশি টেক ইন্ডাস্ট্রির ভালো মাইনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এআই সেক্টরে কাজের বদৌলতে "সম্পদশালী হওয়া সবসময়ই একটি বাড়তি সুবিধা ("being wealthy is always a plus")।"

বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এর তাৎপর্য

The Verge-এর এই অনুসন্ধান মূলত সান ফ্রান্সিসকো আর বার্কলি শহরের মানুষদের গল্প। এখানে বাংলাদেশের ভেতরের কোনো তথ্য নেই। ফলে এই বিতর্ক আমাদের স্থানীয় ক্রেতা বা ফেসবুকের ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের ওপর এখনই সরাসরি কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি।

তবে বাইরের দেশের ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করা বাংলাদেশি ডিজিটাল এজেন্সি, ফ্রিল্যান্স ডিজাইনার আর প্রযুক্তি কর্মীদের জন্য বিষয়টি দারুণ এক ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোতে ডিজাইনার ও ক্রিয়েটিভ প্রফেশনালদের মধ্যে জেনারেটিভ এআই নিয়ে যে কড়া নৈতিক অবস্থান গড়ে উঠছে, তা মাথায় রাখা দরকার। বিদেশের বায়ারদের এই মানসিকতাটা আগেভাগে বুঝতে পারলে আন্তর্জাতিক মার্কেটে কাজ পাওয়া এবং ক্লায়েন্টের সাথে বোঝাপড়া ধরে রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়।

FAQ

সান ফ্রান্সিসকোতে এআই নিয়ে ব্যবহারকারীদের বিরোধিতার মূল কারণ কী?

সংবাদমাধ্যম The Verge-এর অনুসন্ধান অনুযায়ী, বিশেষ করে নার্সিং, গ্রাফিক ডিজাইন ও শিল্পকলার সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব ও সামাজিক দায়িত্বহীনতার আশঙ্কায় এআই ব্যবহারের নৈতিক বিরোধিতা করছেন।

ফ্রন্টিয়ার এআই কর্মীদের প্রতি কেন কিছু মানুষের অনীহা দেখা যাচ্ছে?

এআই সেফটি গবেষকদের একাংশের মতে, ফ্রন্টিয়ার এআই কোম্পানিগুলোর অনেক কাজ মানবজাতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাদের অভিযোগ, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক কর্মী সমাজের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা না করে মূলত বড় অঙ্কের বেতন ও ব্যক্তিগত আগ্রহের জন্য কাজ করেন।

এই বিতর্কের কি বাংলাদেশে কোনো প্রভাব রয়েছে?

প্রতিবেদনটি পুরোপুরি সান ফ্রান্সিসকো ও বার্কলির ডেটিং কালচার সম্পর্কিত। এতে বাংলাদেশের উল্লেখ নেই, তাই স্থানীয় উদ্যোক্তা বা ফেসবুক বিক্রেতাদের ওপর এর কোনো সরাসরি প্রভাব রয়েছে কি না তা নিশ্চিত নয়। তবে আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের সাথে কাজ করা বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা বৈশ্বিক ক্লায়েন্টদের নৈতিক মানসিকতা বুঝতে এটি কাজে লাগাতে পারেন।

ব্যবসা পরিচালনায় সার্বক্ষণিক স্বয়ংক্রিয় গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক সমাধান হিসেবে যারা নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে চ্যাটবট ব্যবহারের কথা ভাবছেন, তারা বিনামূল্যে যুক্ত হতে পারেন Bangla Chatbot প্ল্যাটফর্মে।

সূত্র: The Verge